বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৪:০৩ অপরাহ্ন
ইউনিভার্সেল নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম : বরিশাল নগরীর ২৭ নং ওয়ার্ডের করমজা এলাকার খলিফা বাড়িতে যৌথ সম্পত্তির ডোবার মাছ ধরতে যাওয়াকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সকালে (২৪ ফ্রেব্রুয়ারি) প্রতিপক্ষরা সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে একই পরিবারের এক বৃদ্ধাসহ তিন নারীকে শ্লীলতাহানি সহ পিটিয়ে আহত করেছে। এদের মধ্যে গুরুতর আহত লিপি আক্তার (৩৫) ও তার বোন কেয়া আক্তার (২৫) কে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এবং বৃদ্ধা নারী রেহেনা বেগম (৬৫) প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে জড়িত একই বাড়ির জব্বর খলিফা ও তার ভাই একেস খলিফার নেতৃত্বে নারীদের শ্লীলতাহানি ও বেধম মারধর করা হয়।
এরকম ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনায় এলাকার শান্তিপ্রিয় নারী পুরুষের মাঝে নিরবে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা হামলাকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। খবর পেয়ে বরিশাল বিমানবন্দর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। আইনগত ব্যবস্থা যাতে না নেওয়া হয় সেজন্য এলাকার এক মহল শালিসের মাধ্যমে বিষয়টি মিমাংসা করে দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, হামলাকারী জব্বার ও একেস এলাকায় সন্ত্রাস প্রকৃতির হিসেবে পরিচিত। এরআগেও তারা ওই পরিবারের ওপর হামলা চালিয়েছিল। অদৃশ্য ক্ষমতার দাপটে এলাকায় একের পর এক অন্যায় অপকর্মের জন্ম দিয়ে তারা বার বার পাড় পেয়ে যাচ্ছে। এরফলে আরো বেপরোয়া হয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে জব্বার-ইকেস। এরইধারাবাহিকতায় একই পরিবারের বৃদ্ধাসহ তিন নারীকে শ্লীলতাহানি এবং পিটিয়ে জখমের ঘটনাটিও ধামাচাপা দেওয়ার পাঁয়তারা চালানোর অভিযোগ উঠেছে।
আহত বৃদ্ধা রেহনা বেগম ইউনিভার্সেল নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, যৌথ সম্পত্তির ডোবায় সকালে তার মেয়ে মাছ ধরতে যায়। এসময় জব্বার খলিফা ও তার ভাই একেস সহ অন্যান্য সন্ত্রাসীরা মাছ ধরতে বাধা প্রদান করে। একইসঙ্গে আমার দুই মেয়ে লিপি ও কেয়াকে বেধম মারধরসহ শ্লীলতাহানি ঘটায় তারা। ঘটনাস্থলে আমি গেলে আমার ওপরও হামলা চালায় জব্বার ও ইকেস। হামলা চালিয়ে তারা অকথ্য ভাষায় গালাগাল দিয়ে বলে এ নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে তােদেরকে চিরতরে শেষ করে দেওয়া হবে। বৃদ্ধা নারী অশ্রু সিক্ত কন্ঠে বলেন, ওরা আমাকেসহ আমার দুই মেয়ের ওপর কুকুরের মতো ঝাপিয়ে পড়েছে। এরপর শ্লীলতাহানি এবং মারধর করেছে। আমি হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। তিনি বলেন, আমি ও আমার দুই মেয়েসহ মেয়ে জামাইদের নিয়ে জীবনের চরম নিরাপত্তাহীনতার মাঝে বসবাস করছি। যেকোন সময় ওরা আমাদের আরো বড় ধরণের ক্ষতি করতে পারে। তিনি আরো বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে এসেছে, কিন্তু ওদেরকে গ্রেপ্তার করতে পারে নি। এলাকার আবুল কালাম আজাদ (বাদশা), সালাম সহ কয়েকজন আপাতত থানায় মামলা করতে আমাদের নিষেধ করেছেন। তারা আমাদের জানিয়েছেন শালিস ব্যবস্থার মাধ্যমে ঘটনার বিচার করবেন।
সন্ত্রাসী হামলায় আহত কেয়া আক্তারের স্বামী বরিশাল হকার্স মার্কেটের টেইলার্স ব্যবসায়ী শামীম ইউনিভার্সেল নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, জব্বার এবং তার ভাই একেসের বিরুদ্ধে এলাকায় অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। এরআগেও আমার পরিবারের ওপর হামলা চালিয়েছে। তারা আজকে (শুক্রবার) হামলা চালিয়ে শ্লীলতাহানির মতো ঘটনা ঘটিয়েছে। এবং আমার শাশুড়ি, স্ত্রী সহ তিনজনক পিটিয়ে জখম করেছে। আমি এই হামলাকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। এ বিষয়ে বরিশালের আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের আশু দৃষ্টি কামনা করছি। তিনি আরো বলেন, এলাকায় পুলিশ ঘটনাস্থলে আসার পর এলাকার কয়েক ব্যক্তি হামলার বিষয়ে এলাকায় তারা শালিস বৈঠকে হামলার কঠিন বিচার করবেন বলে আমাদের আশস্ত করেছেন। এজন্য কোন আইনগত ব্যবস্থা নিতে নিষেধ করেছেন।
এসব বিষয়ে শালিসদার আবুল কালাম আজাদ (বাদশা) ইউনিভার্সেল নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, নারীদের মারধরের ঘটনা সত্য। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। আমরা এলাকার লোকজন বিষয়টি শালিসের মাধ্যমে সুরাহা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। শালিসে হামলা এবং শ্লীলতাহানির শাস্তি কী হবে এরকম প্রশ্নে বলেন, শালিসে হামলাকারীদের কোন ছাড় দেওয়া হবে না, কঠিন বিচার হবে। আর আমরা সমাধান করতে না পারলে আহতপক্ষতো পরেও আইনের আশ্রয় নিতে পারবে। বলেন, তারা পরেও আদালতে মামলা করতে পারবেন।
সমাজ সেবা অধিদপ্তরে কর্মরত আরেক শালিসদার সালাম বলেন, বিষয়টি স্থানীয়ভাবেই সমাধান হওয়া ভালো।
এসব বিষয়ে হামলাকারী জব্বার খলিফা ও একেসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাদেরকে পাওয়া যায় নি। সরজমিনেও দেখা মিলেনি তাদের।
© All rights reserved ©2022-2026 universalnews24.comDesign By Ahmed Jalal.
Leave a Reply